খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে ছিলাম: বর্ষা

পুরো নাম আফিয়া নুসরাত বর্ষা। চিত্রনায়িকা বর্ষা হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত তিনি। ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন বর্ষা। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এ সিনেমায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছেন অনন্ত-বর্ষা। পর্দার ‍জুটি বাস্তব জীবনেও সফল জুটিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি সময় টেলিভিশনের ‘অতঃপর আমি’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন বর্ষা। কথা বলেছেন নিজের জীবনের নানা অজানা বিষয়ে। পাশপাশি করেছেন ছোটবেলার স্মৃতিচারণ। জানিয়েছেন নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনাও।
ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্ষা বলেন, ‘আমি খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে ছিলাম। এমনও হয়েছে সকালে আনমনে স্কুলে চলে গিয়েছিলাম। আমার ঘরে খাবারও ছিল না যে আমি এটা খেয়ে যাব। হঠাৎ করে স্কুলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমার টিচার আমাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে ডিম দিয়ে খিচুড়ি খাইয়েছিলেন। তারপর আবার ক্লাসে আসি।’
কথাগুলো বলতে বলতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে যান বর্ষা। তার চোখের কোণায় পানি জমে যায়। নিজেকে সামলে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার ৮-১০ বছর পর্যন্ত অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। খাবারটাও ঠিকমতো পাইনি। তারপর আলহামদুলিল্লাহ, আমার ফ্যামিলি এটাকে ওভারকাম করতে পেয়েছে।’
ছোটবেলা থেকেই মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি পেতেন বলেন জানান চিত্রনায়িকা বর্ষাা। তার ভাষায়, ‘প্রাইমারি শেষ করে হাইস্কুলে যাওয়ার পরও টিচারদের ভালোবাসা পেয়েছি। বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাটক করতে শিক্ষকরা আমাকে ছেলেদের চরিত্রগুলো দিতেন। একবার চেয়ারম্যান চরিত্রে অভিনয় করে কলম উপহার পেয়েছিলাম।’
ছোটবেলায় মাকে খুব ভয় পেতেন। বাবা সবচেয়ে বেশি আদর করতেন বর্ষাকে। সিরাজগঞ্জে বেড়ে ওঠা বর্ষার ঝোঁক ছিল বাংলা সিনেমার প্রতি। পাশে বাড়িতে গিয়ে দেখতেন বাংলা সিনেমা। এ কারণে মায়ের হাতে বকাও খেয়েছেন প্রচুর। কলেজ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ঢাকায় আসেন বর্ষা। এরপর নিজেকে যুক্ত করেছেন শোবিজ দুনিয়ায়। মডেলিং থেকে পা রেখেছেন বড়পর্দায়।
ছোটবেলা ফিরে যেতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে বর্ষা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমি আসলে ছোটবেলায় ফিরে যেতে চাই না। কারণ অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। তবে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে চটপটি-ফুসকা খাওয়া, নদীর ধারে বসা, বান্ধবীদের সঙ্গে গল্প করা খুব মিস করি। এখন চাইলেই এগুলো করতে পারি না। আমার কাছে মনে হয়- ইশ, ওই দিনগুলোতে যদি ফিরে যেতে পারতাম। তাহলে বান্ধবীদের অনেক ভালো ভালো খাওয়াতে পারতাম। হাহাহা।’
যোগ করে বর্ষা আরও বলেন, ‘আমার অতীতকে আমি একদমই ভুলতে চাই না। অনেকে আগে রঙিন দুনিয়াতে এসে অতীত ভুলে গেছে। কিন্তু কেন? আজকে সবাই দেখছে আমার স্ট্যাটাস, আমার পজিশন। এটা দেখে তো অনেকের ভালো লাগতে পারে, অনুপ্রেরণা পেতে পারে। মানুষ স্বপ্নও দেখতে পারে।’
বর্ষা বর্তমানে ব্যস্ত ‘নেত্রী-দ্য লিডার’ সিনেমার কাজ নিয়ে। তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে এটি। ভারতের হায়দারাবাদে চিত্রায়ণ হয়েছে এ সিনেমার কিছু অংশের। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে বাকি অংশের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় আছে বর্ষা অভিনীত ‘দিন-দ্য ডে’ সিনেমাটি। ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এটি। অভিনয়ের পাশপাশি সিনেমা দুটি প্রযোজনা করেছেন অনন্ত জলিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *